
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ারের (৩২) ওপর হামলায় ঘটনায় দুদিন পর থানায় মামলা নিয়েছে। গত শুক্রবার সবুজ শাহরিয়ারের বড়ভাই সেলিম রেজার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করেছেন পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার বেলতলা গ্রামের মতিয়ার মন্ডলের ছেলে রকি মন্ডল(২২), মমিন মন্ডলের ছেলে সুজন মন্ডল (৩২), মোঃ রুকমান মন্ডলের ছেলে রিফাত মন্ডল (২১), মোঃ চাঁদ আলীর ছেলে সোহেল মন্ডল (২৫) এবং মৃত বানুর ছেলে মোঃ পিজির মন্ডল। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনো কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
মামলার বাদি সেলিম রেজা জানান, আমার ভাই বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। পা ভেঙে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে। এতবড় ঘটনার পরেও আসামিরা বেপরোয়াভাবে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের পুরো পরিবার নিরাপত্তা শঙ্কায় আছে।
উল্লেখ যে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে গ্রামের একটি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন দৈনিক কালবেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ শাহরিয়ার। হামলাকারীরা হাতুড়ি, লোহার রড ও বাশের লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা ও পরিবারের লোক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরে ওইদিন রাতেই তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা অবস্থায় সবুজ শাহরিয়ার জানান, জোড়াদাহ ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুর সমর্থক সুজন, রকি ও সোহেল সহ ১০/১২ জন তার ওপর হামলা করেছে।
এদিকে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, সবুজ আমার গ্রামের বাসিন্দা। হামলাকারীরা আমার সমর্থক হলেও হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আমার সমর্থন করলেও কেউ যদি কোন অন্যায় কাজ করে তবে আমি তো তার দ্বায়ভার নিতে পারিনা।
এই ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।