
ঝিনাইদহে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, প্রতিদিন হাম ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে শিশু ভর্তির সংখ্যা। তবে এখন পর্যন্ত এই রোগে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হামের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফারহানা জানান , ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে হাম ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৫জন, শিশু হাসপাতালে ৮জন এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩জন এবং শিশু হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছে ২জন শিশু, বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের প্রথমে জ্বর ও কাশি দেখা দেয়, পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হামের ফুসকুড়ি ওঠে। ভর্তি শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজন হাসেম আলী জানান, হঠাৎ জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় শিশুদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ।
ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. জামিল হোসেন জানান, তার হাসপাতালে ৮জন শিশু ভর্তি রয়েছে। কিছু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। আমরা নিয়মিত চিকৎসা দিচ্ছি টিকার স্বল্পতার কারণে এই অবস্থা হয়েছে এবং আরও বাড়তে পারে।
সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহে কয়েকজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে ৫ চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে। তিনি বলেন, হাম সংক্রামক হলেও সচেতনতা ও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অভিভাবকদের শিশুদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং টিকাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি নজর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।