
ঝিনাইদহ-৪(কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে একের পর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিস ও সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর করা হচ্ছে। ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণ বিধির মধ্যে পড়লেও পুলিশের নিরব ভুমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা সবার প্রতি সমান সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় নলডাঙ্গায় বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অফিস ভাংচুর করা হয়। এ সময় অফিসে থাকা ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ফিরোজের কর্মী ওয়াজ্জেদ এবং তার ছেলে বাদশা ও আহাদ ,ঘড়াশুনি গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শামীম ও শ্রীমন্তপুর গ্রামের আয়নালের ছেলে জনিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়।
এসময় অফিসের টেবিল, চেয়ার ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এরপর এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিন রাতে ৮ জনের একটি দল পৌরসভার হেলাই গ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। অফিসে থাকা চেয়ারগুলো ভাংচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। অপরদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের করা হয়। এসময় আহত করা হয় ৩জনকে। এছাড়া প্রতিদিন নির্বাচনে এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় বিছিন্ন ঘটনা ঘটতেই আছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে আমি মনে করি। নির্বাচন দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আসার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। প্রশাসনও এক রকম পক্ষ-পাতিত্ব করছে বলে মনে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী রাশেদ খানের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি জানান, তার নেতাকর্মী, সমর্থকেরা হামলা-ভাংচুরের সাথে জড়িত নয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী লোকজনই নিজেদের অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ভেঙ্গে আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নলডাঙ্গায় অবস্থিত অফিস ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

