মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের কনসালটেন্ট ডা. মোহসীনা ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অসদাচারণের অভিযোগ তুলেছেন রোগীর অভিভাবক। তবে চিকিৎসকের দাবি তিনি ভুল চিকিৎসা করেননি।
জানা গেছে, মেহেরপুর হোটেল বাজার এলাকার মাহবুব ই রসুল মিন্টুর ১৩ বছর বয়সী ছেলে তৌসিফ আহমেদ রায়ান গত বছরের অক্টোবর মাসে বাম পায়ের উরুতে (এ্যাবসেস) একটি ফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী কনসালটেন্ট মো: শহিদুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করান। তিনি রায়ানের সার্জারি করেন এবং রাজশাহী আইসিডিডিআর’বি তে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস কমপ্লেক্স (যক্ষা) পরীক্ষা করান। সেখানে জেন এক্সপার্ট আল্টা রেজাল্টে যক্ষ নেগেটিভ আসে এবং রিফ রেজিস্টেন্স ও এমটিবি বার্ডেন পজেটিভ আসে। তিনি মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন।
বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত কনসালটেন্ট ডা. মোহসীনা ফেরদৌসী মিষ্টি ক্লিনিক্যালি ডায়াগনসিসে যক্ষা সন্দেহে তাকে ৬ মাসের যক্ষা চিকিৎসা শুরু করেন। ৫ মাস ১০ দিন ওষুধ খাওয়ার পর পুনরায় রাজশাহীর চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের কাছে ফলোআপ চিকিৎসা্ নিতে গেলে তিনি অভিভাবককে বলেন, তার যক্ষা ডিটেকটিভ হয়নি তবে কেন যক্ষা চিকিৎসা করানো হলো এবং চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর অভিভাবক মিন্টু পুনরায় মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক মোহসীনা ফেরদৌসী মিস্টি তার সাথে অসাদচারণ করেন এবং বলেন তার চিকিৎসা কোন ভুল নেই।
রোগীর বাবা মাহবুব ই রসুল মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজশাহীর আইসিডিডিআর’বি থেকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন যক্ষা হয়নি। মেহেরপুরে যক্ষা হাসপাতাল ভুল চিকিৎসা দিয়েছে। আমি এটার ডাক্তারকে বলতে গেলে তিনি খারাপ আচরণ করেন।’
অভিযুক্ত মেহেরপুর বক্ষব্যধি ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত কনসালটেন্ট মোহসীনা ফেরদৌসী মিস্টি বলেন, ‘অনেক সময় ডায়াগনসিসে যক্ষা ধরা পড়েনা। আমরা রোগীর ক্লিনিক্যাল টেস্ট করে যক্ষা সনাক্ত করি। যক্ষা পজেটিভ সন্দেহে তাকে আমরা যক্ষা চিকিৎসা্ দিয়েছি। এখানের চিকিৎসার কোন ভুল নেই। অভিবাবকের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।’
এ বিষয়ে ব্র্যাক যক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের কর্মকর্তা অচিন্ত্য কুমার দাস বলেন, ‘আমরা কোন চিকিৎসা দিই না । আমরা চিকিৎসা ঠিক মত পাচ্ছে কি না, রোগী কেমন আছে শুধুমাত্র এগুলো পযর্যবেক্ষণ করি।’
তবে এ ব্যাপারে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, ‘অনেক সময় ডায়াগনসিসে যক্ষা ধরা পড়েনা। চিকিৎসক রোগী দেখে ক্লিনিক্যালি টেস্টের মাধ্যমে যক্ষার চিকিৎসা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে হয়তো তাই হয়েছে। তবে অভিভাবকের চিন্তিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এতদিন উচ্চ মাত্রার ওষুধ সেবনে কোন ক্ষতি হতে পারে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব ওষুধের কমবেশি পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে। তবে এতে জটিল কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম।’