
দর্শনা পৌর এলাকায় ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে অপহরণ ও আটকের নাটক সাজিয়ে নতুন কৌশলে চাদাবাজি শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।
গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ অন্তত পাচজন ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা খুইয়েছেন। ঘটনায় শনিবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারকরা প্রথমে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর ‘আপনার ছেলেকে আটক করা হয়েছে’ বা ‘অপহরণ করা হয়েছে’ বলে আতঙ্ক তৈরি করে। কল কাটতে না দিয়ে তাৎক্ষণিক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন জানান, গত শনিবার রাতে ০১৮৭১৫০৩৩১৪ নম্বর থেকে কল দিয়ে ছেলে অমিওকে আটকের কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি ০১৮৩৬০৬৭৫৬৬ বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু বলেন, গত সোমবার দুপুরে ০১৩১৮০৪৯৭৩৭ নম্বর থেকে কল দিয়ে ছেলেকে অপহরণের কথা বলে ফোনের লাইন না কেটে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। রামনগরের শরিফ উদ্দিন জানান, গত ২১ মার্চ ০১৬০৩৭৯৮২৬২ নম্বর থেকে কল দিয়ে ডিবি পরিচয়ে ছেলে আব্দুল আল শাফিকে আটক দেখিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাদা দাবি করে। তিনি ০১৭৫৩৫৭৯৯৫৭ বিকাশ নম্বরে ১১ হাজার টাকা দেন।
এছাড়া দর্শনা রেল বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী রানার কাছ থেকে কৌশলে ০১৮৮৬৫৯৫৯৫৬ নম্বরে ২০ হাজার ও ০১৮৮৬৫৬৫৯৫৬ নম্বরে ৫ হাজার ৫ শত টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। দর্শনা পুরাতন বাজারের আব্দুল কাদের ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদেরের বিকাশ নম্বর নিয়ে কৌশলে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।
প্রতারক চক্র ০১৮৭১৫০৩৩১৪, ০১৩১৮০৪৯৭৩৭ ও ০১৬০৩৭৯৮২৬২ নম্বর থেকে কল দিচ্ছে এবং ০১৮৩৬০৬৭৫৬৬, ০১৭৫৩৫৭৯৯৫৭, ০১৮৮৬৫৯৫৯৫৬ ও ০১৮৮৬৫৬৫৯৫৬ বিকাশ নম্বরে টাকা নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যের খোজ নিতে হবে। ডিবি বা পুলিশ কখনো ফোনে টাকা দাবি করে না। সন্দেহজনক কল পেলে সাথে সাথে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দর্শনা ও দামুড়হুদা এলাকায় এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চক্রটি শনাক্তে কাজ করছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।