
দর্শনার দুটি তেল পাম্পে পেট্রোল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। প্রতিদিন কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল পেট্রোল পেলেও শত শত মোটরসাইকেল পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
দর্শনা তেল পাম্পে পেট্রোল আসার খবর পাওয়া মাত্রই শত শত মোটরসাইকেল পাম্পে লাইন দেয়। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পেট্রোল না পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তেল পাম্প মালিকরা জানান, আগে যেখানে ডিপো থেকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হতো, এখন সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার লিটার। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আগে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর পেট্রোল আনতে হতো, এখন ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পেট্রোল সরবরাহের সময় পুলিশের সহায়তায় পাম্পে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। পেট্রোল শেষ হয়ে গেলে ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকায় অবৈধভাবে চড়া দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পারকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি দোকানে ঈদের পরদিন (২১-০৩-২০২৬) ৩০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এছাড়া আকুন্দবাড়িয়া তমালতলা এলাকায় ২৮০ টাকা, সাড়াবাড়িয়া চাররাস্তার মোড়ে ২০০ টাকা এবং প্রতাপপুর এলাকায় ২৬০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু মোটরসাইকেল মালিক পাম্প থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে দোকানদারদের কাছে বিক্রি করছে। এরপর সেই পেট্রোল বিভিন্ন দোকানে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, অসাধু বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওবাইদুর রহমান সাহেল বলেন, কোথায় কোথায় অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে তার তথ্য দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।