
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুৎ বণ্টনে বৈষম্য এবং ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের আল্টিমেটাম দেন বিএনপি নেতারা। তারা জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দর্শনা শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারণে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
দর্শনা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দর্শনা ও জীবননগর এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট হলেও তারা মাত্র ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পান। এর মধ্যে দর্শনা জোনে ৪ মেগাওয়াট এবং জীবননগর জোনে ৭ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার বলেন, দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, আন্তর্জাতিক রেলওয়ে, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সরকারের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ও রাষ্ট্রীয় আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ কারণে দর্শনা পৌর বিএনপির উদ্যোগে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বৈষম্যহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ভুতুড়ে বিলের সমস্যা সমাধান না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এজিএম মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া কোনো গ্রাহকের বিলে ভুল থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক মো. মাহবুবুল ইসলাম খোকন, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র ও পৌর বিএনপির সমন্বয়ক মো. শরিফ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টার, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন খেদু, দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মো. জালাল উদ্দিনসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।