
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পল্লি বিদ্যুতের সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা হাতপাখার কদর আবারও বেড়ে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে মানুষের কাছে হাতপাখাই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই হাতপাখার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার ওপর নির্ভরশীলতা কমে গিয়ে মানুষ এখন তালপাতা, বাঁশ ও সুতোর তৈরি ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার দিকে ঝুঁকছে।
দর্শনা রেলবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সেলিম জানান, “চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাতপাখার দামও বেড়েছে। আগে ৩০-৩৫ টাকায় পাখা পাওয়া গেলেও এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনায় দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের জন্য হাতপাখাই হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির মাধ্যম।
দর্শনা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু পাখা বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না। গরমে পড়াশোনা করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময় এত লোডশেডিং হলে ভালো ফল করা কঠিন।”
এ বিষয়ে দর্শনা পল্লি বিদ্যুতের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মাজেদ বলেন, “আমাদের দর্শনা অফিসে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আমরা যা পাচ্ছি, সেটিই সরবরাহ করছি।”