ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী বাহী সুন্দরবন ট্রেন দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে আপে এবং চিত্রা ডাউনে স্টোপেজ এর দাবীতে প্রায় আড়াই ঘন্টা ঘন্টা রেলপথ অবরোধ করে আন্দলোন করেন ছাত্রজনতা ও ব্যাবসায়ীরা।
আজ ২৪ জুন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে দর্শনা হল্ট ষ্টশনে সুন্দরবন ট্রেনটি পৌঁছালে দর্শনার সকল পর্যায়ের মানুষ ও ছাত্র-জনতা ট্রেনটি আড়াই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এরপর সেনা বাহীনির ক্যাপ্টেন সৌমিক হাসান এক সপ্তাহের সময় নিয়ে দাবী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরোধের পর সুন্দরবন ট্রেনটি ৩টা ১৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবী না মানলে আগামী মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সারা দেশের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন অবরোধ করার ঘোষনা দিয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসী সহ ব্যবসায়ী মহল।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে সুন্দরবন ট্রেনটি পৌঁছালে অবরোধ করেন দর্শনাবাসী। এরপর রেল লাইনের উপর শত শত ছাত্র-জনতা এলাকার সকল পর্যায়ের লোকজন তাদের দাবী তুলে ধরে বলেন, ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী বাহী সুন্দরবন ট্রেন দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে আপে এবং চিত্রা ডাউনে স্টোপেজ দিতে হবে এবং দর্শনা আর্ন্তজাতিক ষ্টেশন থেকে রাজশাহী গামী সকালে ১টি একটি ট্রেন ও দর্শনা গোয়াল-লন্দ লোকাল শ্যাইটেল ট্রেনটি পোড়াদহ পর্যন্ত নয়, দর্শনা আর্ন্তজাতিক ষ্টেশন পর্যন্ত দিতে হবে।
এ দাবী নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দর্শনাবাসী আন্দোলন করে আসছে। এ সকল দাবী নিয়ে আজ মঙ্গলবার সুন্দরবন ট্রেনটি অবরোধ করেন। এসময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথী মিত্র ও দর্শনা থানার অফির্সাস ইনর্চাজ শহীদ তিতুমীর আবরোধ তুলে নিতে বার বার অনুরোধ করলেও আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা তাদের দাবীতে আনড় ছিলেন, যে দাবী না মানা পর্যন্ত ট্রেনটি ছাড়া হবে না। মুহুম মুহুর শ্লোগান দিতে থাকে এবং রেল পথের উপর বসে পড়ে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা তাদের দাবিতে অনড় থাকে।
সর্বশেষ সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন সৌমিক হাসানের একটি টিম এসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা অনিক, রিফাত, দর্শনা পৌর বিএনপি প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট ও দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের সাথে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীদের কে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবী মানার প্রতিশ্রুতি দিলে ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নেন।
আন্দোলন চলাকালিন বক্তব্য রাখেন, দর্শনা ডিএস মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিউদ্দিন, দর্শনা পৌর বিএনপি প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট দর্শনা পুরাতন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, আওয়াল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের মধ্যে আবিদ হাসান রিফাত, তানভীর অনিক ও তৈহিদ ইসলাম। অবরোধ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের সাজ্জাদ হোসেন।