
রোগীর অস্ত্রোপচার মাঝপথে বন্ধ রেখে চিকিৎসকের চলে যাওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত নিয়ম-নীতি না মানার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর নতুন গ্রামের শরীফ উদ্দীনের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য ক্লিনিকটিতে ভর্তি হন।
অভিযোগ রয়েছে, রিচার্ড সরেন নামে এক চিকিৎসক অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই অস্ত্রোপচার শুরু করেন। একপর্যায়ে অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই তিনি চলে যান। পরে রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় নেওয়া হলে সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনার ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ক্লিনিকটিতে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। তিনি জানান, অভিযোগের তদন্তে দেখা গেছে, মুসলিমা খাতুনের অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজেই স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অস্ত্রোপচার শুরু করেন। পেটের অংশ (অ্যাবডোমেন) খোলার পর রোগী অ্যানেসথেটিক জটিলতায় পড়লে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, "ঘটনাটি গুরুতর অনিয়মের শামিল। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে। কাগজপত্র ও সার্বিক সুবিধা পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম বলেন, "ক্লিনিক, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য যে মানদণ্ড ও অবকাঠামো থাকার কথা, তার কোনোটিই প্রতিষ্ঠানটি পূরণ করতে পারেনি। একজন রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ থাকবে।"
অভিযানকালে কার্পাসডাঙ্গা বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর রাসেল উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ক্লিনিকটিকে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।
তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এবং সেবার চেয়ে ব্যবসাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।