
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুমারীদহ মাঠে কৃষক রানা আলীর আঙুর বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর।
বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে যেমন তিনি আশাবাদী, তেমনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের কৃষকরাও।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউটিউব দেখে প্রথমে আঙুর চাষে আগ্রহী হন রানা আলী। পরে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন।
আট মাস আগে জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদহ মাঠে নিজের হলুদ গোলাপ ফুলের বাগানের মধ্যেই আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। দেশীয় চারা ছাড়াও ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন রানা।
চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে আট মাসের মাথায় গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ফল বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
রানা আলি জানান, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকা হলেও তিনি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছেন।
সে হিসেবে প্রায় সাত লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষকদের ভিড় জমছে।
এছাড়া তিনি ১২ হাজার কলমের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে ১,২০০টি চারা উৎপাদন করেছেন, যার মধ্যে বিক্রি করেছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার চারা।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী।
সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রানা আলীর এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।