
বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়ার দক্ষিণপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে দামুড়হুদা মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের হারুন অর রশিদ (৪৩) অভিযোগ করেন, তাকে কিরগিজস্তান দেশে নেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত একই গ্রামের আনছার আলী ও তার ছেলে মিলন হোসেন প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে তাকে ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে নিয়ে গিয়ে কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে অবৈধভাবে সেখানে ফেলে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে মানবেতর জীবনযাপন শেষে পরিবারের পাঠানো আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এতে তার পরিবার প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশে ফিরে অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে হুমকি-ধামকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে আসামি পলাতক ছিল।
পরবর্তীতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে দৌলতদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় তিনি ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকাবাসীর দাবি। এছাড়াও, অভিযুক্তরা এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। তার নামে অন্তত তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, যা ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে জারি করা হয়।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

