
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে মাঠজুড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার নতিপোতা ও নাটুদহ ইউনিয়নের হেমায়েতপুর, বেড়বাড়ী, করিমপুর, কালিয়াবকরী, ভগিরথপুর, বোয়ালমারী ও চারুলিয়া গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই তাণ্ডব আঘাত হানে।
গত রোববার বিকেলে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল ঝড়ো হাওয়া। দমকা বাতাসের তীব্র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় শত শত বিঘা জমির কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল। অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অল্প সময়ের এই ঝড়ই তাদের সারা বছরের পরিশ্রমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বারবার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কৃষকদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বেড়বাড়ী গ্রামের কলাচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, “এই ঝড়ে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু একেবারে শেষ হয়ে গেছে।”
একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার তিন বিঘা কলাবাগান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাছের কিছুই দাঁড়িয়ে নেই। অনেক যত্ন করে এগুলো বড় করেছিলাম। এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
চারুলিয়া গ্রামের পেঁপেচাষি আনারুল ইসলাম বলেন, “এমন ভয়াবহ ঝড় জীবনে খুব কমই দেখেছি। উত্তর দিক থেকে আসা ঝড়ো হাওয়ায় আমার ৩ বিঘা পেঁপে বাগান মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি ৪ বিঘা কলাগাছও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, আক্রান্ত কৃষিজমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কলা ও পেঁপে বাগানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের টিম কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পুনর্বাসন ও প্রণোদনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পথে বসতে পারেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও কৃষি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।