
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া নামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা রকিবুল ইসলাম (রিপন) অভিযোগে জানান, তার ছেলে রাহাত হুসাইন (১২) গুলশান পাড়ার ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মুকিত (৩০) ও হুমায়ন (২৮) দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সামান্য কারণ বা বিনা কারণেই শিক্ষার্থীর কান ধরে টানা, চুল টেনে ধরা, শরীরে চিমটি কাটা, এমনকি মাথায় আঘাত করার মতো অমানবিক আচরণ করা হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে মারধরের এক ঘটনায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।
পরিবারের দাবি, বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুল ধরে টেনে মাথা নিচু করে পায়ের মাঝে ঢুকিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শিশুটির পিঠ, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
এ ঘটনার পর অভিভাবক প্রতিবাদ জানাতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি “ছেলেকে মেরেছি, যা পারিস করে নে” বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থী মারধরের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, আমাকে কেউ কিছু বলেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। শিশুটিকে দেখেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সচেতন মহলও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।