
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামে হারুন-উর রশিদ (৩৯) নামে এক স্কুল দপ্তরিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেমায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত হারুন-উর রশিদ নতিপোতা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামের ক্লাবপাড়ারর শাহাজান আলীর ছেলে। তিনি হেমায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে ঘোরাঘুরি করছিল। দপ্তরি হারুন-উর রশিদ বিদ্যালয়ের সামনে একটি দোকানে গেলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত হারুন-উর রশিদ জানান, সকালে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে নাস্তার জন্য বাইরে বের হলে মোটরসাইকেলে করে আসা দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা
দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার কারণ কিংবা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: শাপলা খাতুন জানান, আহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে দুই হাত ও পেটে গুরুতর ক্ষত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।