
দামুড়হুদা উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ ৮ কবর স্মৃতি সমাধিতে আয়োজিত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটুদাহ এলাকার আট কবর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পতাকা উত্তোলন কর্মসূচির সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন নাটুদাহ হাই স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক ও জামায়াতের রোকন আবু সাদেক।
উপস্থাপনার সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হয়। তবে কে সেই ঘোষণা দেন—তার নাম উল্লেখ না করায় স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করার দাবি তোলেন।
এ সময় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত জামায়াত নেতাদের কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য এড়িয়ে যাওয়া উদ্দেশ্যমূলক এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, “১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই সত্য গোপন রেখে বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে সত্য তথ্য তুলে ধরা হোক।”
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন,
“২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই বিষয়টি উল্লেখ না করে স্বাধীনতার চেতনাকে অবমাননা করা হয়েছে। এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলি বলেন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় উপস্থাপনাকারীর কিছুটা ত্রুটি ছিল। এ কারণে সামান্য বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলেও পরে সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন,
উপস্থাপনার সময় স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়। তবে পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করবেন উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। একজন স্কুল শিক্ষক মাইকে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছিলেন। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

