
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
নিজের প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসীন হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা অর্জন করবে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চুয়াডাঙ্গা জেলার জয়রামপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. আব্দুল মালেক এবং মাতা মোছা. জাহানারা খাতুন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তিনি হাউলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তিনি বিএনপির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ও আস্থার কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম নিজেও জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাই নিজের বিদ্যাপীঠের নেতৃত্বে ফিরে আসাকে তিনি গর্ব ও আবেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “নিজের প্রিয় বিদ্যালয়ের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জেলার অন্যতম আদর্শ ও মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পাঠদানের মানোন্নয়ন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও বিতর্কসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলমের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।