
মেহেরপুরের পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলো ২৪ ঘন্টায় ১০ থেকে ১১ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে গ্রাহকরা। বাকি ১৩ থেকে ১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
একদিকে ভ্যাপসা গরম এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সবমিলিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জনজীব বিষন্ন হয়ে পড়েছে।
সরকারিভাবে খুব বেশি বিদ্যুতের সমস্যা না দেখালেও মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বলছে চাহিদার ৫০ শতাংশও তারা পাচ্ছে না , ফলে লোডশেডিং দিতে হ্চ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল কিংবা, দিন কিংবা রাত সমানতালে এক ঘন্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে মানুষ রাতে ঘুমাবে বিৎ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমাতেও পারছেন। এছাড়া চলতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম বিপাকে।
চাষীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করার পর থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছে।স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের অনুগত এই কর্মকর্তা সরকার ও সাধারণ চাষীদের বিপদে ফেলতে এই অনিয়ম শুরু করেছেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে। বাকী ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছেন।
ভুক্তভোগী ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক মুসফিকুর রহমান বাবলু, হুমায়ুন কবির ও তাহাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের মাঠে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অঞ্চলে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে, বাকী ২২ ঘন্টা লোডশেডিং দেখিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন, ৩ ঘন্টা পর পর ১০মিনিট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ফলে কোন জমিতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অল্প সময়ের মধ্যেও যদি সমাধান না হয় তাহলে এই অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে। এঘটনায় জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার কৃষকরা।
জ্বালানি সংকট, সেই সাথে বিদ্যুৎ না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।আগামী বছরে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়ে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারী ভাবে আগের থেকে বাংলাদেশে জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে লোডসেডিং হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, আমরা শুনেছি বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে শত ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।
সেখানে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন যোগদান করার পর থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য সাধারন গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন।
গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি জানান, সরকারী ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন সমস্যা নেই। গাংনী জোনাল অফিসে আগে যেসকল কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে করেছে। এর আগে গাংনী জোনাল অফিসে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিলো বর্তমানে সরকারী ভাবে তাই আছে শফিউদ্দিন সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য এমন শুরু করেছে।
এব্যাপারে গাংনী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না, আপনারা জিএম স্যারের সাথে কথা বলেন।
গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি নেই। একটি গোষ্ঠী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছে, আমার গাংনী উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে।
আমি খোঁজ খবর নিবো কি কারুনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, বিনা কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে বা সরকারী উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করে তাহলে (ডিজিএম) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বলেন, মেহেরপুরের ৯০ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল, জ্বালানি ও কৃষি প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে সরাসরি দেয়ার জন্য মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসারের নিকট তিনি অনুরোধ করেছেন, কিন্তু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় সার, বীজ ও জ্বালানির সংকট তৈরি করছে। তাতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।ইতিমধ্যেই সরকার গত বছরের তুলনায় এবছর ৪০ পারসেন্ট জ্বালানি বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও যে সংকট চলছে তা একেবারেই কৃত্রিম।
এখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান রাষ্ট্রীয়ভাবে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। একটি গোষ্ঠী সংকট তৈরি করছে, এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কৃষকদের ডিজেল কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে এবং কার্ড অনুযায়ী কৃষকরা জ্বালানি সরবরাহ করছে।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলা চাহিদার ৫০ শতাংশও পাচ্ছি না। যার ফলে এভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আবাহাওয়া ঠাণ্ডা হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, তখন লোডশেডিং করা লাগে না। ’