
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকা থেকে আল সাহাব (২২) নামের আরও এক অনলাইন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এনিয়ে দুই সপ্তাহে মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট- জুয়া খেলার সাথে জড়িত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের অব্যহত অভিযান অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের প্রেস রিলিজ থেকে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মেহেরপুর গাংনী থানাধীন গাড়াডোব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি চৌকস টিম তাকে গ্রেফতার করে। সাংবাদিকদের প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। আল সাহাব গাড়াডোব পুকুরপাড়ার বাসিন্দা। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-৫৪ ফাইভ-জি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার ও রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া খেলা ও পরিচালনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মেহেরপুর ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর আওতায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়।
সেই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে গাড়াডোব এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল সাহাবকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-৫৪ ফাইভ-জি মোবাইল ফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ প্রেস রিলিজে জানান, সাহাবের মোবাইল ফোন প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে অনলাইন জুয়ার চ্যানেলে লেনদেনসহ মালয়েশিয়ার মুদ্রায় বেআইনি ই-লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার মুঠোফোনে থাকা চারটি ই-মেইলে ১৩টি অনলাইন জুয়ার আইডির তথ্যও পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত সাহাবকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অনলাইন জুয়ার শীর্ষ এজেন্ট আক্তারুজ্জামান ফিলসনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা এবং একটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
১২ মে মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ রানা মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেন ও উলফতুন্নেছা দম্পতির ছেলে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
১৮ মে মেহেরপুর শহরের চাঁদবিল ঈদগাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুয়াইব আহম্মেদ সৌমিক (২৫) কে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স জব্দ করা হয়েছে।
৭ ও ৮ মে মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রোহান আলী ওরফে রাকেশ (২০), মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে অনলাইন জুয়াড়ি ফয়সাল আহমেদ (২৮) এবং সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে রনি মিয়া (২৭)-কে।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, কয়েকটি সিমকার্ড এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নগদ ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা জব্দ করা হয়।
১৬ মে মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চলমান অভিযানে রাফসান জনি রিপন (৩২) নামে এক কথিত জুয়ার এজেন্টসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে রাতভর পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে একাধিক স্মার্টফোন। এসব ফোনে অনলাইন জুয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল আইডি ও অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯), বায়েজিদ ডালিম (৩০) ও রকিবুল ইসলাম (৩৫)।
১৫ মে রাতভর মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থানে থাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর সরাসরি তদারকিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
প্রথমে সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ ডালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড-৫ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোনটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে Binance অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ফোনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি ই-মেইল ঠিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।
পরে বায়েজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ওপো স্মার্টফোন ও একটি ভিভো ওয়াই-০৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোন দুটি যাচাই করে অনলাইন জুয়া খেলা এবং Binance এর মাধ্যমে অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে দাবি ডিবির।
এদিকে ডিবির আরেকটি দল সদর উপজেলার গাড়াডোব এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাফসান জনি রিপনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি রেডমি নোট ১৪ প্রো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ৩৭টি ই-মেইল আইডি এবং ২৯টি অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে রাফসান জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমঝুপি এলাকা থেকে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ওপো এ-৩৮ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনটি পরীক্ষা করে সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়া-সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই মোবাইল ব্যাংকিং ও Binance অ্যাপ ব্যবহার করে অবৈধ ই-ট্রানজেকশন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন বক্তব্যর পর থেকে নড়েচড়ে বসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।