
২৬ মার্চ নবম বর্ষে পদার্পণে জেলার একমাত্র আয়না ও মুখপত্র ‘‘মেহেরপুর প্রতিদিন’’ পত্রিকার পরিবারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ থেকে নয় বছর আগে মেহেরপুর প্রতিদিন নামক কাগজটি জন্ম নিয়ে অনেক চড়ায় ঊৎরায় ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আট বছর সফল ভাবে পার করেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের ঐতিহাসিক পটভূমিতে সবচেয়ে ছোট্ট জেলা মেহেরপুর হলেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি দখল করে আছে। শত বছরের প্রতীক্ষার স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম জনযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের তীর্থ স্থান, প্রথম রাজধানী, প্রথম সরকার গঠন, শপথ গ্রহণ এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিচালিত হয় এই মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। নানা কারণেই আমাদের ছোট্ট জেলাটি সারা দেশে এক ঈর্ষণীয় স্থান দখল করে আছে। কিন্তু একটি কাগজের অভাবে আমরা জানাতে পারতাম না আমাদের অর্জনের কথাগুলো। মেহেরপুর প্রতিদিনের জন্মের পর আমরা সেই অভাব কিছুটা হলেও মিটাতে পেরেছি।
মেহেরপুরের উর্বর মাটি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, এটি প্রতিরোধের, প্রতিবাদের এবং সত্যের প্রতিক। এই মাটিতে জন্ম নিয়েছে সাহসী কন্ঠ সাহসী কলম যোদ্ধা আর সেই কন্ঠের আধুনিক রূপ একটি দৈনিক পত্রিকা ‘‘মেহেরপুর প্রতিদিন’’ । এর নবম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের উৎসব নয়, এটি সত্য প্রকাশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনামূলক এক নিরন্তর যাত্রার মাইলফলক। প্রতিদিনই ইতিহাসের দালিলিক প্রমাণ পত্র হয়ে থাকছে। ‘‘মেহেরপুর প্রতিদিন’’ গত নয় বছরে প্রমাণ করেছে একটি স্থানীয় পত্রিকা একটি জেলার জন্য কতটা প্রয়োজন এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সকালে মেহেরপুরের মানুষ প্রিয় কাগজ মেহেরপুর প্রতিদিনে চোখ বুলিয়ে যে যার কাজে যায়।
সীমিত সামর্থ, সীমিত সম্পদ অন্যদিকে সীমাহীন চ্যালেঞ্জ তবুও তারা থেমে যায়নি। কারণ তাদের কাছে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয় এটি একটি পবিত্র আমানত পবিত্র দায়িত্ব, দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং প্রতিশ্রুতি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে কলমের মূল্য পাঁচ টাকা হলেও দায়িত্বের চেয়ারে এর মূল্য অসীম। শহীদের রক্তের চেয়ে কলমের কালি দামি মেহেরপুর প্রতিদিন তা ভুলে যায়নি। সুন্দর জাতি রাষ্ট্র পৃথিবীর জন্য যেসব গণমাধ্যম কলম যোদ্ধা শব্দ যোদ্ধা সাংবাদিক সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন জীবনদান করেছেন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, পরিবার পরিজন ও সম্পদ হারিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই। বহু প্রাচীন সভ্যতা একটি অংশ জ্ঞানচর্চা। এই জ্ঞানচর্চা কালের বিবর্তণে বহুরূপে প্রচারিত এবং প্রকাশিত মানবিক সেবার সবচেয়ে জনপ্রিয় আস্থার মাধ্যম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যম। সেখানেও যুক্ত হয়েছে মেহেরপুর প্রতিদিন। মেহেরপুর প্রতিদিন কতৃপক্ষ কোনদিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনা।
যুগে যুগে একটি সুন্দর পৃথিবী স্বাভাবিকভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা সহজ হলেও সত্যিকারের সমাজ পরিবর্তন, দেশ ও জাতি গঠনের এবং মানবিক বিশ্বের জন্য সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রকৃত সাংবাদিক হওয়া অনেক কঠিন দায়িত্বের এবং চ্যালেঞ্জের। সাংবাদিকতার পূর্ব শর্ত একজন সাংবাদিককে অধ্যাবসায়ী, সময়ের মূল শিক্ষানুরাগী, সাহসী, প্রতিবাদী, সৎ, বিনয়ী, ধৈর্যশীল, শৃঙ্খলা, গভীর মানবতা প্রেমী, ত্যাগী বিশ্বাসী সর্বপরি অনেক জ্ঞান সম্পন্ন হতে হয়। তাঁকে বুঝতে হবে তার পবিত্র কলমের মর্যাদা ও সম্মান। জনকল্যাণই হবে মুখ্য বিষয়। এখানে বীরোচিত সম্মান আছে কিন্তু অঢেল অর্থ সম্পদ নেই। জেনে শুনে বুঝে এই পেশায় আসা উচিত।
সবার জন্য গণমাধ্যম এবং রাজনীতি নয় কিন্তু আমাদের দেশে পুরোটাই উল্টো! আমরা এখনও ব্যক্তি দল সংগঠন প্রতিষ্ঠান এবং সরকার কেন্দ্রিক সমালোচনা করতে শুনতে স্বাগত এবং দুঃখিত বলতে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। দায়িত্বের চেয়ার গুলো বৃদ্ধি পেলেও দায়িত্ব বোধ সেভাবে বাড়ছে না। বেড়েছে আইন, কমেনি অপরাধ। মহান রাজনীতি আজ মাঠে নেই, পকেটে যার ফলে সুনীতির জন্য হাজার কোটি টাকার কার্য্যক্রম চললেও আজো দুর্নীতিকে রুখে দিতে পারেনি। রাষ্ট্রের মহাজন জনগণ এখন পরাধীন, চাকরের ভূমিকায় পবিত্র কলম, পবিত্র শপথ । পবিত্র পোশাক, পবিত্র চেয়ার কেন আজ শ্রদ্ধাহীন, অবিশ্বাস এবং বিতর্কিত? নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে জেনে শুনে অপরাধ মেনে নিচ্ছি এবং দূর্নীতিকে উৎসাহিত করছি। সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রের সফলতা বিফলতার চিত্র তুলে ধরার। আর সে দায়িত্ব কিছুটা হলেও স্থানীয়ভাবে তুলে ধরছে আমাদের প্রিয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন কাগজটি।
‘‘মেহেরপুর প্রতিদিন’’ এর নবম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গিকার হোক *কলম বিক্রি হবে না *সত্য চাপা পড়বে না *অন্যায়ের সাথে আপোষ হবে না *ক্ষমতার সামনে মাথা নত করা যাবে না *জনতার মুখপাত্র হিসেবে আপোষহীন পথ চলা। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কর্ম চিরস্থায়ী এবং ইতিহাসে দালিলিক প্রমাণপত্র হয়ে থাকবে আমাদের প্রিয় মেহেরপুর প্রতিদিন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।
২৬ মাচর্ মেহেরপুর প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠার দিনে প্রত্যাশা করি তার আদর্শকে লালন করে বেঁচে থাকবে যুগযুগ সত্য ন্যায়ের প্রতীক হয়ে।