
প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ইঞ্জিনচালিত ভ্যান হারিয়েছেন কিশোর মুন্না বিশ্বাস। পিতা-মাতা কোনো খোঁজ না নেওয়ায় তিনি নানার বাড়িতে থেকেই ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ভুক্তভোগী মুন্না বিশ্বাস ঝিনাইদহের জীবননগর উপজেলার নারানপুর গ্রামের দুখু বিশ্বাসের ছেলে। প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার সকালে ভ্যান নিয়ে ভাড়া মারতে বের হয়ে এ প্রতারণার শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি কোটচাঁদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মুন্না বিশ্বাস জানান, বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে জীবননগর ভ্যান স্ট্যান্ডে আসেন। সেখানে দুইজন যাত্রী হাসাদাহ যাওয়ার কথা বলে ভ্যান ভাড়া করেন। যাত্রীরা ভ্যানে বসে চালাতে বলেন। কিছু সময় পর তারা হাসাদাহ পৌঁছান। এরপর যাত্রীরা তাকে কোটচাঁদপুর শহরে যাওয়ার কথা বলেন।
কোটচাঁদপুরে পৌঁছে যাত্রীদের একজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভ্যান রেখে মুন্নাকে বাজারের ভেতরে নিয়ে যান পাটের বস্তা কেনার কথা বলে। কিছুক্ষণ পর ওই যাত্রী মুন্নাকে নিয়ে আবার ভ্যানের কাছে ফিরলেও সেখানে ভ্যান ও অপর যাত্রীকে আর দেখতে পাননি। কিছু সময়ের মধ্যেই ওই যাত্রীটিও কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়ে।
ভ্যান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্না। পরে তিনি তার নানাকে ফোন করলে নানা ঘটনাস্থলে এসে কোটচাঁদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মুন্নার নানা মান্নান পাটুয়ারী বলেন, মুন্নার পিতা-মাতা জীবিত থাকলেও কেউ তার খোঁজ নেয় না। সে কারণে ছোটবেলা থেকেই সে আমার বাড়িতেই থাকে। তার আয়ের জন্য কিস্তির টাকা তুলে আমি ভ্যানটি কিনে দিয়েছিলাম। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফোন করে মুন্না পুরো ঘটনা জানায়।
তিনি আরও বলেন, ভ্যানটিই ছিল মুন্নার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, তাও কিস্তির টাকায় কেনা। প্রতারক চক্র ভ্যানটি নিয়ে যাওয়ায় আমরা এখন চরম বিপাকে পড়েছি।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার এনায়েত আলী বলেন, ভ্যান চুরির ঘটনায় মুন্না নামের এক কিশোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভ্যানটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

