
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ফারদিন আহম্মেদ নিরব হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তিনটি বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে গয়েন্দা পুলিশ। পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিকের পক্ষে সাইফ নোমান এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান, অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ‘তাজ ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নিতে গিয়ে কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
নীরব হত্যার পর উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একই মালিকের ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশন’-এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন রাত সোয়া তিনটার দিকে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা ‘রয়েল পরিবহন’-এর দুটি ও ‘জে-লাইন পরিবহন’-এর একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে নিরব হত্যা মামলায় ৩জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ। হত্যার ঘটনার চেয়ে ভাঙচুরের বিষয়টিকে বড় করে দেখা হলে তা হবে দুঃখজনক। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।