
মেহেরপুরের গাংনীতে ধর্ষণ মামলার বাদিকে আদালতে যেতে বাঁধা বিএনপির নেতার শিরোনামে মেহেরপুর প্রতিদিনের সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটিতে তুলে ধরা হয়েছে, একজন নারীর উপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা নয়— এটি বিচারপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা।
একজন ধর্ষণ মামলার বাদী, যিনি আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন, তাঁকে পথেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে— লাঠিসোটা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, দোকানে তালাবদ্ধ করে। এই কাজটি যিনি করেছেন, তিনি নিজেকে আইনের চেয়ে বড় মনে করেন বলেই করেছেন।
অভিযুক্ত নুর ইসলাম খোকন একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে তাঁর এই কাজের পরিচয় হলো— তিনি একজন ধর্ষণের আসামির পক্ষে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগীকে নিপীড়ন করেছেন। নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন যে তাকে "ডেকে আনা হয়েছিল"— অর্থাৎ এটি পরিকল্পিত। আর সেই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই: বিচারকক্ষে পৌঁছানোর আগেই ভুক্তভোগীকে ভেঙে দাও।
আরও উদ্বেগজনক হলো নুর ইসলামের ঔদ্ধত্য। নির্যাতনের পর তিনি বলছেন "সামাজিক সালিসই সঠিক"— যেন ধর্ষণের বিচারও পাড়ার মোড়লদের টেবিলে হওয়া উচিত। এই মানসিকতা আমাদের সমাজে নতুন নয়, কিন্তু এটি যতদিন প্রশ্রয় পাবে, ততদিন ভুক্তভোগী নারীরা আদালতের পথে একা হাঁটতে ভয় পাবেন।
এ ঘটনায় মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন যথার্থই বলেছেন— সালিসের নামে মারধর ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু কথায় নয়, তাঁর এই বক্তব্যের প্রমাণ দিতে হবে কাজে। দলীয় ছত্রছায়ায় যারা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে এই কথা কেবল আনুষ্ঠানিকতাই থাকবে।
এদিকে, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে, তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। এটুকু যথেষ্ট নয়। দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এই মামলার ফলাফল শুধু একজন নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে না— এটি সমাজকে একটি বার্তা দেবে যে বিচারপ্রার্থীকে থামানোর মূল্য দিতে হয়।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা সেই নারী আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন বলেই আদালতে যাচ্ছিলেন। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া।