
মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা শুরু হচ্ছে আজ ১৯ জানুয়ারি সোমবার থেকে। সকাল ৯টায় শুরু হবে প্রভাতি শাখার এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় দিবা শাখার।
অথচ কয়েক ঘন্টা আগে গতকাল ১৮ জানুয়ারি রবিবার বিকালে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ স্বৈরাচার মনোভাব নিয়ে যখন যা খুশি তাই করছেন। শিক্ষকদের দিয়ে মেয়েদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখান, যে কারণে কেউ কথা বলতে রাজি হয় না। আগামীকাল (আজ) সোমবার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা শুরু হবে আর আজ (গতকাল রবিবার) বিকালে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগীতার প্রস্তুতির জন্য নুন্যতম সময় তারা দেয়নি। এ ধরণের ঔধত্যপূর্ণ আচরণের বিচার হওয়া উচিত।
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, ‘সারাদিন বিদ্যালয়ে ছিলাম কিন্তু কিছুই জানলাম না। বিকাল বেলায় ফেসবুকে দেখলাম সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার নোটিশ। নোটিশে বলা আছে কালকে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা শুরু হবে। এটা কোনভাবেই হতে পারে না।’
বিদ্যালয়ের জারিকৃত নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯ জানুয়ারি সকাল ৯টায় প্রভাতি শাখা ও দুপুর সাড়ে ১২টায় দিবা শাখার ছাত্রীদের রবীন্দ্রসংগীত ও দেশাত্মবোধক সংগীত প্রতিযোগীতা হবে।
২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার একই সময় অনুযায়ী আবৃত্তি, লোকসংগীত, নজরুলগীতি ও একক অভিনয় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে।
২১ জানুয়ারি বুধবার উভয় শিফট একই সঙ্গে সকাল ৯টায় প্রতিযোগীতা হবে , তবে কোন বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।
২৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল ৯টায় উভয় শিফটের একই সঙ্গে একক নৃত্য প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এ বিষয়ে কথা হয় মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার আহবায়ক জনি আলমের সাথে।
তিনি বলেন, হেড স্যারের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আপনি যে অভিযোগ করছেন, একই অভিযোগ অভিভাবকরাও করছেন। এ ধরণের অনষ্ঠানের প্রস্তুতি হিসেবে একটু সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আমার কিছু করার নেই। আজ বিকালে (গতকাল রবিবার) নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
নির্দিষ্ট ছাত্রীদের বিজয়ী করার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটি সঠিক নয় বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে আর কথা বলতে চাননি।
মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা ১৩ তারিখ থেকে বাচ্চাদের (ছাত্রীদের) বলে আসছি। কিন্তু কেন যে ভুল করে আজ ১৮ জানুয়ারি নোটিশ করা হলো বুঝতে পারলাম না। এটা ভুলে হতে পারে। তবে ছাত্রীরা সব জানে কবে কখন কোন প্রতিযোগীতা হবে।