
একটি সড়ক শুধু ইট-পাথরের নির্মাণ নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গাংনী উপজেলার ভবানীপুর-বেতবাড়ীয়া সড়ক চার দিন ধরে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এখনো কার্যকর মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয় মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরেই পড়ছে না।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যান, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত করে এবং রোগীরা জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বর্ষা মৌসুমে এমন পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। একটি অ্যাম্বুলেন্স বা অগ্নিনির্বাপণ যান যদি জরুরি মুহূর্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, তার দায় কে নেবে?
প্রাকৃতিক দুর্যোগে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ক্ষতির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পরিচয়। চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে যদি শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়, তবে জনগণের আস্থা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।
স্থানীয় প্রশাসন, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে অবিলম্বে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ভাঙন না ঘটে, সে জন্য টেকসই প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
জনগণের করের অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
জনদুর্ভোগ কোনো পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাই ভবানীপুর-বেতবাড়ীয়া সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন আর কেবল উন্নয়নের দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।