
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পদ্মাসেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ফরিদপুরের ভাঙ্গা। এখানে গত ৮ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক মানুষ। আর গত এক সপ্তাহে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৮ জন।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়ে ও মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, বিভিন্ন স্থানে সরু সেতু বা কালভার্ট, থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের আধিক্য, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির ঘাটতির কথা। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল ও খুলনা অভিমুখী মহাসড়কগুলো যেন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, রাজধানী থেকে পদ্মাসেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন প্রতিদিন এ পথে চলাচল করছে। এ মহাসড়কে যাতায়াত ব্যবস্থা যতটা সুগম হয়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। তাদের মতে, সড়ক ভালো হওয়ায় যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলারের বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, মার্চে ৫ জন, এপ্রিলে ৪ জন, মে মাসে ৯ জন, জুনে ৮ জন, জুলাইয়ে ৬ জন এবং আগস্টে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আগস্ট মাসে। এ নিয়ে গত ৮ মাসে এ মহাসড়কে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি মানুষ। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮ যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
এ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী রফিক মোল্লা বলেন, মহাসড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।
বাসচালক সুমন শেখ বলেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক প্রশস্ত হলেও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাবনাতলা এলাকার সেতুসহ চারটি সেতু এখনো প্রশস্ত করা হয়নি। তাই এসব সরু সেতুতে ওঠার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি বেপরোয়া গতির কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। উঠতি বয়সি কিশোর ও তরুণরা হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দিপু বলেন, দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।