
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের খোসালপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে জুয়েল রানা (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জুয়েল খোসালপুর গ্রামের আনারুল হকের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মরদেহটি নদীর পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ বিজিবির উপস্থিতিতে লাশটি উদ্ধার করে।
বিজিবি ৫৮ ব্যাটলিয়নের পরচিালক কর্ণেল রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার ১১টার দিকে জুয়েল ঘাষ কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়। ভারতীয় সীমান্তের শুন্য লাইনের ২০০গজ দুরে খোশালপুর গ্রামের মাঠে ঘাষ কাটছিল কারন সেখানে তার ব্যবহৃত জামা-কাপড় পাওয়া গেছে। পরে পারিবারিক ভাবে বিজিবিকে খবর দেয় বিজিবি তাকে খুঁজতে থাকে পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা লাশটি বাংলাদেশের সীমান্তে ইছামতি নদীতে জুয়েলের লাশ ভাসতে দেখে এবং বিজিবি সদস্যরা তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে খোসালপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। জুয়েল রানার ভাই অভিযোগ করে বলেন, জুয়েল একই গ্রামের মাসুদ, মিলন ও কামরুলের সাথে ব্যবসায়িক কাজে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাদের একটি ব্যাগ হারিয়ে যায়, যাতে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল। ওই ব্যাগ হারানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
নিহতের ভাইয়ের দাবি, এই বিরোধের জেরে ওই তিন যুবক জুয়েলকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

