এখন পর্যন্ত এসব কোনো স্থাপনাই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ হয় অন্তত ১০ বছর আগে। সর্বশেষ সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে বড় মিলনায়তন নির্মাণের কাজ শেষ হয়।
তবে এখনো প্রশাসনিক প্লাজা, অ্যাপ্রোচ রোড, জেনারেটর ক্রয় (১০০-কেভিএ), মানচিত্রের স্টেজে কাঠের কাজ, সিঁড়িতে এসএস রেলিং, জলছাদ, র্যাম্প ও এসপিএমসিবি পাওয়ার সকেট, আন্ডারগ্রাউন্ড সার্ভিস লাইনের কাজ শেষ হয়নি।
প্রথম দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ভাস্কর্য স্থান পেলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পর সেই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়, যা নিয়ে বিএনপি সে সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
মানচিত্রের বাইরে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভাস্কর্যসহ অন্যান্য ভাস্কর্যগুলো এতটাই নিম্নমানের ছিল, যা মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ত। অনেকটির ভেতরে রডের বদলে চিকন তার ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে শিলাবৃষ্টি বা ঝড় হলে সেগুলো প্রায়ই ভেঙে যেত। কয়েক দফা সেগুলো ফের মেরামতও করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণের স্থান, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাসমৃদ্ধ তথ্য ও নিদর্শন দেশবাসী ও তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বিদেশিদের কাছে মূর্ত করে তুলতে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে কাজ শুরু করে মাঝে প্রকল্পটি কাটাছেঁড়া করা হয়। বেশির ভাগ কাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। প্রকল্পের কিছু কাজ অসমাপ্ত থাকা অবস্থাতেই ভাস্কর্যগুলো স্বাধীনতাবিরোধী দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলে।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শিল্পী রানী রায় বলেন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভাস্কর্য প্রতিস্থাপনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তার কোনো প্রতিউত্তর এখনো আসেনি।

নতুন আরো একটি প্রকল্প :
২০২১ সালের ২০মে নতুন করে ৪০৯ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প অনুমোদন করে তৎকালীন সরকার। যে প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্কাল্পচার গার্ডেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার মেমোরিয়াল মুর্যাল, তিনতলা বিশিষ্ট অ্যাডমিন ব্লক, দুইতলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ব্লক, চারতলা বিশিষ্ট ট্রেনিং সেন্টার, চারতলা বিশিষ্ট অফিসার্স ও স্টাফ কোয়ার্টার, সুইমিং পুল, ফুড জিয়স্ক ও রেস্টরুম, রেন্টাল শপ, ওয়াচ টাওয়ার, ভিভিআইপি ও ভিআইপি পার্কিং, সাধারণ পার্কিং, মাছ ধরার ডেক, রোপওয়ে, দুইতলা বিশিষ্ট বোট ক্লাব, সুপেয় পানির ডিসপেনসার, ব্যাংক প্রটেকশনসহ লেক, ব্রিজ, কনটোর্স, আইল্যান্ড, ওয়াচওয়ে, চালকদের আবাসন, শিশু পরিবার ও ডরমিটরি, দুইতলা বিশিষ্ট স্কুল, টেনিস কাম বাস্কেটবল কোর্ট, প্লেগ্রাউন্ড, লেজার শো ও ওয়াটার শিল্ডসহ আরো কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে নতুন ৫৬.০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রটির আয়তন ১২৭ একরে রূপ নেওয়ার কথা। জমি অধিগ্রহণসহ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ ধরা হয় প্রায় ৪১০ কোটি টাকা। প্রয়োজনে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধিরও কথা ছিল।
আমবাগান পরিচর্যার জন্য অপেক্ষা :
মুজিবনগরের ঐতিহাসিক আম্রকাননে বর্তমানে এক হাজার ১০০টি গাছ বেঁচে রয়েছে। পরিচর্যার অভাবে এরই মধ্যে শতাধিক গাছ মারা যাওয়ায় বাগানটি ক্রমেই শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। জীবিত গাছগুলোর পরিচর্যার জন্য মেহেরপুর হর্টিকালচার সেন্টার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। দ্রুত গাছ বাঁচানোর প্রকল্পের বরাদ্দ ছাড় হলে কাজ শুরু করা হবে বলে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
স্বাধীনতা সড়ক :
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের কলকাতা থেকে যে মেঠোপথ ধরে জাতীয় চার নেতাসহ দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা এসেছিলেন সেই পথটিকে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর উদযাপন উপলক্ষে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ নাম দেওয়া হয়। মেঠোপথটির বাংলাদেশের অংশ ৫০০ মিটার সড়ক এক কোটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে এরই মধ্যে পাকাও করা হয়। ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে এই সড়কের উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা হয় এই সীমান্তপথে দুই দেশের মধ্যে চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি স্থলবন্দর নির্মাণ হবে। এর সরকারি গেজেটও প্রকাশ হয়। কিন্তু এই কাজের আর কোনো অগ্রগতি নেই।