
মেহেরপুর সদর উপজেলার পূর্ব সিংহাটি গ্রামের বাঘমারা মাঠে শত্রুতামূলকভাবে চায়না কমলার গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাশ্ববর্তী জমির মালিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে জমির মালিক সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে তরিকুল ইসলাম ৩১ কাঠা জমিতে চায়না কমলার বাগান গড়ে তোলেন। গত তিন বছর ধরে তিনি ওই বাগানের কমলা বিক্রি করে আসছেন। গত বছর বাগান থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে কমলার গুটি এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত শনিবার পাশ্ববর্তী জমির মালিক রবিউল ইসলাম তার জমির পরিত্যক্ত ভুট্টা গাছে আগুন দেন। সেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের জমিতে থাকা চায়না কমলার গাছে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি গাছ পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর হাফিজুর রহমান বলেন, গাছ পোড়ানোর বিষয়ে মুঠোফোনে রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করেন। পরে বুধবার দুপুরের দিকে বাগানের আরও দুটি কমলার গাছ কেটে তছরুপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সেনাসদস্য তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমি কর্মসূত্রে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে শত্রুতামূলকভাবে আমার এ ক্ষতি যিনি করেছেন, আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, “তরিকুল ইসলাম আমার আপন বোনের ছেলে। তাদের সঙ্গে আমার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। আমার জমির পরিত্যক্ত ভুট্টা গাছে আগুন দেওয়ার সময় পাশাপাশি জমি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আগুনের তাপে তিনটি কমলার গাছ পুড়ে গেছে। তবে আমার বিরুদ্ধে গাছ কাটার যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা। গাছ আমি কাটিনি। তৃতীয় কোনো পক্ষ আমাদের বিরোধকে স্থায়ী করার জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।”
উল্লেখ্য, রবিউল ইসলাম ভুক্তভোগীর শ্বশুর হাফিজুর রহমানের আপন বড় ভাই।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, পারিবারিকভাবে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। তবে এ বিরোধের পরিসমাপ্তি কীভাবে হবে, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।