
মেহেরপুর শহরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি কালুকে আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা পালানোর পথে গাংনী এলাকা থেকে তার কথিত প্রেমিকা বন্যাকে আটক করা হয়।
পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মেহেরপুর শহরের শেখপাড়ায় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে খালাতো ভাই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন (৪৫) পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি শেখপাড়ার রিয়াসিন আলীর ছেলে। নিহতের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত কালু একই এলাকার আকবর আলীর ছেলে এবং নিহতের খালাতো ভাই।
এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত কালুর সঙ্গে প্রতিবেশী বন্যা নামের এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত রবিবার একটি ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাম হোসেনকে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই মেহেরপুর সদর থানায় কালু ও বন্যাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন জানান, তার স্বামী সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে গোসল করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে কালু পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। গুরুতর অবস্থায় গোলাম হোসেনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ডা. জামিনুর রহমান খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কালু ও তার প্রেমিকাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে গাংনী থেকে প্রেমিকাকে এবং কুলবাড়িয়া এলাকা থেকে কালুকে আটক করা হয়েছে। পরে কালুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।