
মেহেরপুরের বহুল আলোচিত হোটেল আটলান্টিকা কাণ্ডের চাঁদাবাজি মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা জজ-১ম আদালতের বিচারক মো: ইমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নাজনিন খান প্রিয়া, মতিয়ার রহমান, মামুন শাহজাহান, নেহাল , জয়, ছন্দা খাতুন, আবু আক্তার করণ, তুহিন অরন্য, রেক্সনা খাতুন, নিলুফার ইয়াসমিন রুপা, বর্ষা খাতুন, নুসরাত, সুমন রহমান বিমান ও বিপাশা খাতুন। অপর ২ আসামি মিজানুর রহমান জনি ও আব্দুস সালাম মামলা চলাকালীন মারা গেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান স্বপন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুলে আসামিরা খালাস পেয়েছেন। রায়ের কপি হাতে পেলে বোঝা যাবে তদন্তে গাফিলতি আছে কি না।
মামলার পটভূমি গত বছরের ২২ নভেম্বর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের এনজিও কর্মী মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩২)। মামলায় মূল আসামি ছিলেন নাজনীন খান ওরফে প্রিয়া খান।
তদন্তে বেরিয়ে আসে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের তথ্য। প্রিয়া খান ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে হোটেল আটলান্টিকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে গোপনে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।
পুলিশি অভিযানে হোটেল মালিক মতিয়ার রহমান, তার ছেলে মামুনসহ একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যে আসামি মিজানুর রহমান জনি ও আব্দুস সালাম মামলা চলাকালীন সময়ে মারা যান।
উল্লেখ্য, এর আগে একই কাল্ডের পর্ণগ্রাফি মামলায় নাজনিন খান প্রিয়া, হোটেল মালিক মতিয়ার রহমান, তার ছেলে মামুন ও সহযোগী শাহজাহানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। অপর আসামি নেহাল ও জয়কে ৬ বছরের কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ জরিমানা করা হয়। তবে জয় এখনো পলাতক রয়েছে , বাকিরা উচ্চ আদালত আপিল করে জামিনে রয়েছেন।