
অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগেও সে গ্রেপ্তার হয়েছিলো।
ডিবির একটি সূত্র ও স্থানীয় গ্রামবাসী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শামীম রেজার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মেহেরপুরে দুটি এবং ঢাকার সিআইডিতে আরও তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে বলে ঢাকা সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি প্রদীপ কুমার সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাক্ষীর কারণে বর্তমানে মেহেরপুরের বাইরে রয়েছি। তবে আমার টিম একজন এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। কাকে, কী কারণে এবং কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে আগামীকাল অফিসিয়াল প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আপনাসহ সব গণমাধ্যমকর্মীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শামীমের সম্পদের পরিমাণ বাড়তে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি। পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি আরও দুটি বহুতল ভবনের মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বর্তমানে যে বাড়িতে তিনি বসবাস করেন, সেটির পাইলিং করতেই দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বাড়িটির নিচে রয়েছে দুই তলা আন্ডারগ্রাউন্ড এবং ওপরে আরও তিন তলা।
বাড়ির পাশে থাকা একটি আমবাগানের অর্ধেকও শামীম কিনে নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কোমরপুর গ্রামে প্রথম হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করার সময় প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল তুলেছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে শুধু কোমরপুর গ্রামেই প্রায় ২৫ বিঘা জমি কিনেছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এ ছাড়া সাহেবপুর গ্রামে শ্বশুর ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার পর শামীম টাকার প্রভাবে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও নারী কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোমরপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কিছুদিন আগে শামীমের একটি অনলাইন জুয়া চ্যানেলের এক পার্টনারকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে তার টাকা ও চ্যানেল আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শামীমকে গ্রেপ্তারে মেহেরপুরে তিনবার অভিযান পরিচালনা করেছিল ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।