
মেহেরপুরে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: অংশীজনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) আয়োজিত এ সভায় সহযোগিতা করে গণসাক্ষরতা অভিযান।
আমঝুপি কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাবলু সূত্রধর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মেহেরপুর জেলার সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের (মউক) নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিম এবং গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার কার্যক্রম কর্মকর্তা সিজুল ইসলাম।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার কার্যক্রম ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মউকের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাদ আহমেদ।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন কাউন্সিলর শারমীন পারভীন, সমাজকর্মী দিলারা জাহান, মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এসএম মোহাইমিনুল ইসলাম, শিক্ষক শরিফুল ইসলাম মিঠু, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী শেখ মনিরুল হুদা, অভিভাবক রুপালী খাতুন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাদিয়া আফরোজ, এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক আজিমুল হক লাবলু ও অভিভাবক আল আমিন হোসেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সব উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত মিড-ডে মিল চালু, শিশুদের বইয়ের বোঝা কমানো, খেলাধুলাসহ আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং ঝরে পড়া রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভর্তির আগে সচেতনতামূলক উদ্যোগ, হুইলচেয়ার, শ্রবণসহায়ক যন্ত্র ও সাদাছড়িসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ প্রদান, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেদে, যৌনকর্মী ও হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য স্থায়ী কার্যক্রম চালু, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উপবৃত্তির অর্থ ন্যূনতম ৫০ টাকা নির্ধারণ, স্কুলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, মাধ্যমিক স্তরে অন্তত একটি করে ট্রেড চালু এবং কৃষিশিক্ষার অংশ হিসেবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার প্রস্তাব দেন।
মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম পরীক্ষার নম্বর পদ্ধতি যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকের সম্পর্ক উন্নয়ন, স্কুল-পরবর্তী সময়ে শিখন ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং কোচিং ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও মতামত দেন তাঁরা।
এ ছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ লটারি পদ্ধতি নিশ্চিত, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ, ডিভাইসের প্রতি আসক্তি কমাতে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, স্কাউটিং ও হলদে পাখি কার্যক্রম সক্রিয় রাখা, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) কার্যক্রমের বরাদ্দ বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়।
সভায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মীসহ অর্ধশতাধিক অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।