
মেহেরপুরের সোহাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক নারীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্টে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর রক্তের গ্রুপ সেখানে বি পজিটিভ (B+) উল্লেখ করা হলেও পরে অন্য দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় ও পজিটিভ (O+) রিপোর্ট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে মো. হুজাইফা ডিক্লিয়ার।
এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
ওই নারী মোছা. মনোয়ারা রহমান। তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বাদশার স্ত্রী। তাঁর বয়স আনুমানিক ৭৫ থেকে ৭৭ বছর।
হুজাইফা ডিক্লিয়ারের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মেহেরপুর শহরের জেনারেল হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত সোহাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর মায়ের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করানো হয়।
সেখানে রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ উল্লেখ করা হয়। পরে অন্য দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ পাওয়া যায়। একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ পরীক্ষায় ভিন্ন ফলাফল আসার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুরের এমওসিএস চিকিৎসক ইনজামাম উল হক বলেন, “রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল হওয়া খুবই মারাত্মক বিষয়। রক্ত সঞ্চালনের আগে ক্রসম্যাচিংয়ের মাধ্যমে অনেক অসংগতি ধরা পড়তে পারে। কিন্তু এ পর্যায়েও যদি ভুল হয়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, সোহাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. সোহাগ রক্ত পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, “রক্ত পরীক্ষায় ভুল হয়নি, সেটা আমরা অস্বীকার করছি না। তবে হাসপাতাল থেকে যে রক্ত পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটি ওই রোগীরই কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। ওই দিন ২৬ জন রোগী পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন। টেকনোলজিস্টের কারণে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”