
মেহেরপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকার টিনের তৈরি বসতঘর। মাত্র আধা ঘণ্টার দমকা হাওয়ায় ভেঙে পড়েছে শত শত গাছপালা, কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি; ঝরে পড়েছে আম ও লিচুর গুটি। এমনকি উপড়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটিও।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝোড়ো হাওয়ায় জেলার তিনটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির চালা উড়ে গেছে, কোথাও আবার গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। রাতভর বিচ্ছিন্ন ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ।
ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষিরা। বাগানজুড়ে মাটিতে পড়ে আছে ঝরে পড়া আম। অনেক আম ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। চাষিদের দাবি, তাদের বাগানের প্রায় অর্ধেক আম ঝড়ে নষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে মাঠের ভুট্টা ফসলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় ফসল নুয়ে পড়ে অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ের প্রভাবে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা অন্ধকারে ছিল মেহেরপুর।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।
রবিবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও গাংনী-হাটবোয়ালিয়া সড়কে ভেঙে পড়া গাছ সরাতে কাজ করছেন স্থানীয়রা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এদিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।