
মেহেরপুর শহরের বড় বাজারে জামানতের টাকা ফেরত না দিয়ে, একরামুল ইসলাম নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাইকেল রিপেয়ারিং দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের যে ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং দেশের আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা ও পেশীশক্তির চরম বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭৭ সাল থেকে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা একটি পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনকে প্রকাশ্য দিবালোকে, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।
মেহেরপুর প্রতিদিনের সংবাদ থেকে স্পষ্ট, ‘মণ্ডল কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’-এর নকশা বাস্তবায়নের অজুহাতে একরামুলের দোকানটি জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। নকশা অনুমোদন বা মালিকানা দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য আইনের তোয়াক্কা না করে ২০-৩০ জনের দলবল নিয়ে হামলা চালানো মগের মুল্লুকেরই শামিল। মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির মতে, এই অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনার পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমাদের সমাজে যখনই কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী অর্থ বা ক্ষমতার দাপট দেখায়, তখনই একরামুলের মতো দরিদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এভাবে বলির পাঁঠা হন।
যদিও পরবর্তীতে বাজার কমিটির মধ্যস্থতায় ১২ লাখ টাকার একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ক্ষতিপূরণ কি একজন মানুষের দীর্ঘদিনের জীবিকা ও তার ওপর হওয়া মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনার সঠিক বিচার?
একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনের দেশে জোর যার মুল্লুক তার—এই নীতি চলতে পারে না। উন্নয়ন বা মার্কেট নির্মাণের নামে কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে এভাবে পথে বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি। মেহেরপুরের এই ঘটনাটি দেশের অন্যান্য বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য একটি সতর্কবার্তা।
আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কেবল আর্থিক সমঝোতাতেই ক্ষান্ত হবেন না; বরং ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রভাবশালী মহল কোনো নিরীহ ব্যবসায়ীর ওপর এমন অন্যায় করার সাহস না পায়, তা নিশ্চিত করতে আইনি ও সামাজিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।