
জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য সময়োপযোগী, মানসম্মত ও সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেহেরপুরে ‘স্বাস্থ্য খাতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেহেরপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের জেন্ডার, এনজিও ও অংশীজন অংশগ্রহণ ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাসহ জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, প্রশাসন, সমাজকল্যাণ, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এবং কর্মশালার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. মো. এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উপপরিচালক-৪ (উপসচিব) ডা. রেজওয়ান আহমেদ। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. দাবির আল কাদের।
মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাসিম আখতার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উপপরিচালক-৪ (উপসচিব) ডা. রেজওয়ান আহমেদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের জেন্ডার, এনজিও ও অংশীজন অংশগ্রহণ ইউনিটের সাবেক জাতীয় পরামর্শক ডা. এ.জি.এম. মাশুকুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অবসরোত্তর ছুটিতে) মো. আবু মোমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. গোলাম রাফি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ও যুগ্ম সচিব এস.এম. আবু হোরায়রা এবং মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।
এ সময় দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রটোকল, ধর্ষণ-পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা মডিউল, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ব্যবহারের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক ক্লিনিক্যাল, ফরেনসিক ও মেডিকোলিগ্যাল সেবা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ, রিপোর্টিং এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের জেন্ডার, এনজিও ও অংশীজন অংশগ্রহণ ইউনিট ২০১৭ সাল থেকে স্বাস্থ্য খাতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এর মাধ্যমে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য সমন্বিত ও সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ও মেডিকোলিগ্যাল সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।