
মেহেরপুরে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে মঞ্চ নাটক। জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক পালাবদলে মেহেরপুরে শিল্প সংস্কৃতিতেও প্রভাব পড়েছে। সরকারি নির্দেশনায় জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ‘বন্দী’ নামের একটি নাটক মঞ্চায়ন হয়েছিলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে সেই নাটকটি মঞ্চায়িত হয়েছে স্থানীয় নতুন শিল্পিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে। এর বাইরে শিল্পকলা বা অন্য কোন সাংস্কৃতিক সংগঠণ গেল দুই বছরে মেহেরপুরে কোন নাটক মঞ্চায়ন করেনি।
জুলাই আন্দোলনের পরে শিল্পকলা একাডেমির নতুন কমিটি গঠণ হয়নি। এছাড়া আওয়ামী ঘরানার শিল্পিরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে নাটকসহ সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তবে আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে মেহেরপুর থিয়েটার নামের একটি সংগঠণ একটি নাটক মঞ্চায়ণ করার প্রস্তুতি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মেহেরপুর থিয়েটারের যুগ্ম আহবায়ক ও নাট্যশিল্পি আলী রেজা বিছু জানান, তাঁর পরিচালনায় লালন ফকির নামের একটি নাটক মঞ্চায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থিয়েটার ক্লাবে নাটকটি মঞ্চায়নের লক্ষে রিহার্সাল করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে লালন ফকিরের তিরোধান দিবসকে কেন্দ্র করে নাটকটি মঞ্চায়নের প্রস্তুতি চলছে।
আলী রেজা বিছু বলেন, দুই বছর যাবৎ নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। শিল্পকলাও থেকেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিল্প সংস্কৃতি অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
তবে, আওয়ামী ঘরানার কয়েকজন সাংস্কৃতিক সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে কারণে তারা এ ধরণের কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারেন না। তবে কারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এ প্রশ্নের কোন জবাব তারা দেননি।
মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা সুজন রহমান বলেন, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কেন্দ্রিয় কোন কর্মসূচি না থাকায় কোন নাটক মঞ্চায়ন হচ্ছে না।
তবে সাধারণ কার্যক্রম যেমন সঙ্গীত, নৃত্য, তবলা, অঙ্কন প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। আবৃতি ও নাটক প্রশিক্ষক জুলাই আন্দোলনের পর পদত্যাগ করায় এ দুটি প্রশিক্ষণ বন্ধ রয়েছে।
আওয়ামী ঘরানার সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের কোন কথা ও বা নির্দেশনা কখনো দেওয়া হয়নি। তাদের নিজেরায় আসেন না।