
মেহেরপুরে পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা। একসময় পাট কাটার পর ফেলে রাখা কিংবা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটখড়ির এখন বাজারে চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে পাট চাষে কৃষকদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ হয়ে উঠেছে।
কৃষকরা জানান, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। পাট বিক্রি করে সেই খরচের পর যে লাভ থাকে, তার সঙ্গে পাটখড়ি বিক্রির টাকা যোগ হওয়ায় কৃষকের আয় কিছুটা বাড়ছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট কাটার পর খড়গুলো জমি থেকে সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে আঁটি করে রাখা হয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন তারা।
স্থানীয় বাজারে পাটখড়ির বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার বেশি। এছাড়া ঘরের বেড়া, গোয়ালঘরসহ বিভিন্ন কাজে পাটখড়ি ব্যবহার করা হয়।
কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, আগে পাটখড়ি নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করতে হতো না। জমি থেকে পাট তুলে নেওয়ার পর খড় পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি বা মাঠ থেকে পাটখড়ি কিনে নেওয়ায় সেটিও কৃষকের কাছে বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
সদর উপজেলার এক পাটচাষি মোঃ রফিক বলেন, পাট চাষে খরচ অনেক। পাট বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তার পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের চাপ কমে। তাই এখন পাটখড়িও যত্ন করে সংরক্ষণ করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাটখড়ির চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তারা বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন। বিশেষ করে জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহার থাকায় এর বাজার রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের সঙ্গে পাটখড়ি থেকেও কৃষকরা আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় পাট চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
পাটখড়িকে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতেও পাটখড়ি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।