
ভুল তথ্য ও গুজব শনাক্ত করা, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে তথ্য যাচাই ও ফ্যাক্ট চেকিংবিষয়ক সেমিনার।
তবে সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য সংবাদকর্মী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মূলধারার অনেক সংবাদকর্মীকে বাদ দিয়ে কথিত সংবাদকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানোর অভিযোগ তুলে সেমিনার বর্জন করেছেন মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকেরা। সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের মিনি সম্মেলনকক্ষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয়, সক্রিয় সাংবাদিকতা ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন, এমন অনেক সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে, কারা এবং কোন বিবেচনায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বর্জনকারী দুই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকেরা।
তাঁদের মতে, তথ্য যাচাই ও অপতথ্য প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
সেমিনারে সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগও উঠেছে। তথ্য যাচাই ও সংবাদ পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও মেহেরপুরে সাংবাদিকতায় আগ্রহী আওয়ামী লীগ-সমর্থক তরুণদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজনের নজির ছিল। বর্তমান আয়োজনেও আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে একই ধরনের পক্ষপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম বলেন, “এটি শুধু সেমিনারে অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয় নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত প্রতিনিধিত্ব, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ আয়োজনের স্বচ্ছতা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের প্রশ্ন সামনে আনতেই আমরা কর্মশালাটি বর্জন করেছি।”