
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর উদ্যোগে মেহেরপুরে বারি মসুর-৮ ও বারি মটর-৩ এর নতুন জাত উদ্ভাবন ও উৎপাদন কর্মসূচি বিষয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বারাদীতে ইনস্টিটিউটের নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্রে বারি মসুর-৮ এবং বেলা ১১টার দিকে বারি মটর-৩ এর কর্মসূচি পালন করা হয়।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, মেহেরপুরের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারাদী বিএডিসি খামারের উপ-পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ, কৃষি বিজ্ঞানী মামুন হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মাঠ দিবসে প্রায় ৮০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। তারা বারি মসুর-৮ ও বারি মটর-৩ এর নতুন জাতের চাষাবাদ পদ্ধতি, রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা, ফলন বৃদ্ধি ও আর্থিক সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন।
বারি মসুর-৮ সম্পর্কে জানানো হয়, এ জাতটি রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল হওয়ায় সাধারণত ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। এর ফলন আগের অনেক জাতের তুলনায় বেশি প্রতি হেক্টরে প্রায় ২২০০ থেকে ২৫০০ কেজি পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া জাতটি জেনেটিক্যালি উন্নত হওয়ায় প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম।
অন্যদিকে বারি মটর-৩ বীজ হিসেবে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ থেকে ৩ টন ফলন পাওয়া যায়। আর সবজি হিসেবে সংগ্রহ করলে ফলন আরও বেশি প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২ থেকে ১৪ টন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, মটর বাংলাদেশের অন্যতম সাশ্রয়ী ডাল ফসল। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ও উপযোগী ফসল। কৃষকরা যেহেতু লাভের উদ্দেশ্যেই কৃষিকাজ করেন, সেক্ষেত্রে বারি মটর-৩ তাদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।