
২০১৪ সালের নির্বাচনে মেহেরপুরে ভোটের আগে উত্তেজনা ছিল, তবে তা সীমিত পর্যায়ে। ২০১৮ সালে সেই উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোটের আগেই নানা এলাকায় সংঘর্ষের গুজব, পোস্টার ছেঁড়া এবং শেষ মুহূর্তের টানটান পরিস্থিতি ভোটারদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেখছেন মেহেরপুরের মানুষ।
এবারের চিত্র ভিন্ন। ভোটের আগে এখন পর্যন্ত কোনো বড় সহিংসতা নেই, প্রকাশ্য উত্তেজনাও চোখে পড়ে না। হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর, মিছিলকেন্দ্রিক সংঘাত- সবই প্রায় অনুপস্থিত। প্রশাসনের ভাষায় পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’। কিন্তু মেহেরপুর ও গাংনীর অতীতের দুই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলনা করলে এই স্বাভাবিকতাই প্রশ্ন তৈরি করছে।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোটের আগে যেসব এলাকায় প্রকাশ্য উত্তেজনা ছিল, সেসব এলাকাতেই এবার ভোটারদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ বেশি। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটাররা বলছেন, আগের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের মন থেকে যাচ্ছে না। এক ভোটারের ভাষায়, আগে গোলমালটা দেখা যেত, এবার দেখা যাচ্ছে না-এইটাই বেশি ভয়।
২০১৮ সালের নির্বাচনে অনেক প্রার্থী শেষ দিকে প্রকাশ্য প্রচারণা কমিয়ে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা শঙ্কায়। এবারের নির্বাচনে একই আচরণ দেখা যাচ্ছে, তবে আরও নীরবভাবে। কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন না, কিন্তু রাতের প্রচারণা সীমিত রাখা, চলাচলের রুট বদলানো কিংবা নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে পাহারা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটি দেখাচ্ছে- ঘটনা না থাকলেও সতর্কতা রয়েছে।
তিন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য এসেছে তথ্যপ্রবাহে। ২০১৪ সালে গুজব ছড়াত মুখে মুখে, ২০১৮ সালে মোবাইল ফোনে, আর এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনলাইন উসকানি প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রশাসন ও প্রার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অদৃশ্য সতর্কতা কাজ করছে।
সব মিলিয়ে তিন নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্ত কাগজে-কলমে। কিন্তু এই শান্ত পরিবেশ অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ভোটারদের পুরোপুরি নিশ্চিন্ত করতে পারছে না। মেহেরপুরে তাই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সহিংসতা নয়, বরং ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ ইতিহাস বলছে, এখানে ভয় আগে আসে, ঘটনা পরে।