
মেহেরপুরের বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মেহেরপুর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পিয়াজ ৫০ টাকা,রসুন ১০০ টাকা,আলু ২৫ টাকা,গাজর ১৩৫-১৪০ টাকা, আদা ১৭০-১৮০ টাকা, টমেটো ১১৫-১২০ টাকা, বেগুন ৯০-১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০-৬৫ টাকা এবং বরবটি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৫৫-৬০, লাউ ৪৫-৫০, ওল ৪৫-৫০, ঝিঙে ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৫০,লালশাক ৪০ টাকা, কাকরুল ৫০ এবং করলা ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তুলনায়ও বেশ কিছু পণ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। পাইকারি বাজারে বেগুন ৭৫-৮০ টাকা, টমেটো ১০০-১০৫ টাকা, গাজর ১১৫-১২০ টাকা, আদা ১৫০-১৫৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪৫-৫০ টাকা এবং বরবটি ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বেগুন, টমেটো, রসুন,গাজর, আদা ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টি ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে।
সবজি ক্রেতা আনসারুল হক বলেন, “গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে কিছু কিছু সবজির দাম একটু বেশি। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। বাড়তি দামে সবজি কিনতে কষ্ট হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।”
সবজি ক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, “সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের সব সময়ই দরকার। দাম কমুক বা বাড়ুক, কিনতেই হবে। কিছু কিছু সবজির দাম ঠিক থাকলেও বেগুনসহ কয়েকটি সবজির দাম বেশি।”
ব্যবসায়ী জাব্বার হোসেন বলেন, “গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে মালের দাম কিছুটা কম। তবে বেচাকেনাও কম। কয়েকটি জিনিসের দাম একটু বেশি হয়েছে। বর্ষায় ফুল-জালি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেগুন, পটল ও মিষ্টি কুমড়ার দাম বেড়েছে। এছাড়া আলু, কাঁচা মরিচ, কচুসহ অনেক সবজির দাম স্বাভাবিকের মধ্যেই আছে।”
খুচরা সবজি বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, “আগে মালামালের দাম কম ছিল, তাই বিক্রিও বেশি হতো। এখন প্রায় সব মালামালের দাম আগের তুলনায় বেশি। আগে যে বেগুন ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন তা ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। পটলও ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী কাউসার বলেন, “বৃষ্টির কারণে অনেক পণ্যের আমদানি কমে গেছে। এ কারণে কিছু পণ্যের দাম বেশি। বাজারে ক্রেতার আগমনও কম, ফলে খুচরা বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। চাষিরাও সমস্যায় আছেন। যে পরিমাণ মাল হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। অনেক চাষি অল্প পরিমাণ পণ্য বাজারে নিয়ে আসছেন।”
সবজির পাশাপাশি মেহেরপুরের মাছের বাজারে চড়া দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বেশি অসন্তোষ দেখা গেছে। বাজারে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, কাতলা ৩০০ টাকা, বাটা ১৯০-২০০ টাকা, কই ২১০-২২০ টাকা এবং জিউল মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং গ্লাসকাপ মাছ ২৮০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে তেলাপিয়া ১৮০, পাঙ্গাস ১৭০, কাতলা ২৭০, বাটা ১৭০, কই ১৯০ এবং ইলিশ ৬৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী সুজল কুমার হালদার বলেন, “ইলিশ মাছসহ প্রায় সব মাছের দামই একটু বেশি। এখন খাল-বিলেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ে মাছ ধরার পরিমাণ কম থাকায় বাজারে আমদানিও কম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে মাছের চাহিদা বেশি।”
আরেক মাছ ব্যবসায়ী সুনীল কুমার হালদার বলেন, “বাজারে মাছের আমদানি কম হওয়ায় দাম বেশি। চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া গেলে দাম কমে যাবে বলে আশা করছি।”
মাছ ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগের তুলনায় সব ধরনের মাছের দামই বেশি। ইলিশসহ যেকোনো মাছ কিনতে বেশি টাকা লাগছে। বাজারে ঘুরে দেখা যাচ্ছে, কেজিপ্রতি ২০০ টাকার নিচে মাছ খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। মাছ সবারই প্রিয়, তাই দাম কিছুটা কমলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হতো।”
বাজারে আটাশ চাল ৫৫ টাকা, লালসন্য চাল ৫০ টাকা এবং আটা ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুরি ডাল ১১০-১২০ টাকা, কলাই ডাল ১৭০ টাকা, মটর ডাল ৬৫ টাকা, সুলা ডাল ১১০ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা এবং ছাগির মাংস ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৬০-২৮০ টাকা, লেয়ার ৩৪০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিনিহাস ৪৫০ টাকা, পাতিহাঁস ৩৫০-৪০০ টাকা এবং রাজহাঁস ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে মুরগি ও হাঁসের বিক্রেতাদের দাবি, এসব পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা আগের তুলনায় কমেছে।
সার্বিকভাবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছ, বেগুন, গাজর, আদা ও টমেটো সহ কয়েকটি সবজির বাড়তি দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ক্রেতাদের দাবি, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধানও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।