
মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সবুজ ছায়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের করা মামলা আদালত খারিজ করে দিলেও তারা বিরোধ অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে গণ্ডগোল ও মারধর করা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘোষপাড়ায় ক্রয় করা জমির ওপর সবুজ ছায়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। চলতি বছরের ১৪ মে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আমিরুল ইসলাম বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে যাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে জমি ও নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছে। মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় এসে তারা গণ্ডগোল ও মারধর করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সবুজ ছায়া ইংলিশ ভার্সন স্কুল ও মাদ্রাসার পরিচালক আফরোজা ইসলাম বলেন, ‘এহিয়া খন্দকারের ছেলে আব্দুর রশীদ, আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন নারী আমাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। ওই সময় অনেক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গেও তারা খারাপ আচরণ করেন। এমনকি শিশুদের সামনে তারা বঁটি নিয়ে মারতে আসেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আদালতের রায় না মেনে তারা জোর করে আমাদের নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন।’
অভিভাবক সোহাগ খন্দকার বলেন, ‘মাদ্রাসায় এমন ঘটনা দেখে আমার ছেলে ভয় পেয়ে যায়। সে কান্নাকাটি করছিল। পরে তার মা আমাকে ফোন দিলে আমি দ্রুত এসে পরিস্থিতি দেখি।’
আরেক অভিভাবক মোছা. নিশি বলেন, ‘আমার ছেলে অনেক ভয় পেয়েছে। আমিও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে এখানে ছেলেকে পড়ানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
এদিকে, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ হওয়ায় উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।