
মেহেরপুর জেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। সকালে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একই সময়ে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ভোট প্রদান করেন।
এদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাহারবাটি চারচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সৃষ্ট সংঘর্ষে জামায়াতের ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ভাটপাড়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মোশাররফ হোসেনের ছেলে রিপন আলী (২৫), আহাজদদীনের ছেলে আনারুল ইসলাম (৫০)ইদ্রিস আলীর ছেলে আলাহাজ আলী(৪০), সাইদুল ইসলামের ছেলে সম্রাট (৩০), ভ্যানচালক ওয়ারেশ আলী(৪৫) সাহারবাটী গ্রামের বিএনপি কর্মী বক্কার আলী।
এছাড়া মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর তারানগর ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ আহত হয়েছে তিন জামায়াত কর্মী। খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের ৪ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা অনেকেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গাংনী সংসদীয় জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ভোটারদের কোন কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না বিএনপির লোকজন এবং অনেককে মারধর করেছে এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন অনেকের কয়েকজনের অবস্থা আশংকা জনক। এ বিষয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে জানানো হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেছেন।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার (এসপি) উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা শোনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। সংঘর্ষের বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে সকাল পৌণে আটটার সময় মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান শেষে তারা দুজনে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।
মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাজউদ্দীন খান অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-সমর্থক ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা।
মুজিবনগরের জয়পুর তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের বাধাপ্রদান, জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেছেন। তারা হলেন, মুজিবনগর জয়পুর গ্রামের হুজুর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মানিক হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক দুজন পুলিশী হেফাজতে রয়েছেন।
এদিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় দুটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের ৭ প্রার্থী ভোট যুদ্ধ করছেন।
এদের মধ্যে মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান, জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল হামিদ ও সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ও জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল বাকী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে মুলপ্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। মেহেরপুরের দুটি আসনে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।