
সপ্তাহের ব্যবধানে উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করেই সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত পেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আর প্রশাসন শুধু নামেমাত্র বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও এর তেমন কোনো প্রভাব বাজারে পড়ছে না।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি হাট ইজারা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, সার, বীজসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তেল সংকটের কারণে সেচ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, তাই দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ৪০ টাকার বেগুন ১২০ টাকা, ৪০ টাকার শসা (খিরা) ৮০ টাকা, ৪৫ টাকার গাজর ৭০ টাকা, ৪৫ টাকার ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, ৬৫ টাকার বরবটি ১০০ টাকা, ৫০ টাকার কচুর লতি ৮৫ টাকা, ৬০ টাকার উস্তি ৮০ টাকা, ৩০ টাকার পুঁইশাক ৬০ টাকা, ৩০ টাকার টমেটো ৭০ টাকা এবং ৪০ টাকার ঝিঙে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, আলতাপাটি আলু ২৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।
সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, “বাজারে এখন কিছুই কেনার মতো অবস্থা নেই। যে বেগুন সপ্তাহখানেক আগে ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১২০ টাকা। পটলও গত হাটে ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ ১০০ টাকা।”
আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, “পাম্পে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এই অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। পুঁইশাকও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, খাবো কী?”
সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, “আমরা আড়তে গিয়ে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমরা যেমন দামে কিনি, তেমন দামে বিক্রি করি।”
আরেক বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, “গত হাটে যে পটল ৩৫ টাকায় কিনেছি, আজ পাইকারি কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকায়। বেগুনও আগের ৪০ টাকার জায়গায় এখন ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।