
টানা বৃষ্টি ও পরবর্তী তীব্র রোদের প্রভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় মেহেরপুরের বাজারে বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। একই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কম থাকায় মাছের দামও বাড়তি। এতে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, রসুন ৯০-১০০, কচু ৪০-৪৫, টমেটো ১১৫-১২০, কাঁচামরিচ ৯০-১০০, বেগুন ১২০-১৩০, আদা ১৭০-১৮০, শসা ৫৫-৬০, কলা ৫০, আলু ২৫, লাউ ৩০, পেঁপে ২০, বরবটি ৬০, গাজর ১৩৫-১৪০, ওল ৪৫-৫০, লালশাক ৪০, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৬০, ঝিঙে ৫০, করলা ৭০ এবং কাঁকরোল ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা, রসুন ৭০-৮০, কচু ৩০-৩৫, টমেটো ১০০-১০৫, কাঁচামরিচ ৭৫-৮০, বেগুন ১১০, আদা ১৫০-১৫৫, শসা ৪০, কলা ৪০, আলু ১৮-২০, লাউ ২৪, পেঁপে ১০-১২, বরবটি ৪৫-৫০, গাজর ১১৫-১২০, ওল ৩৮-৪০, লালশাক ৩৫, পটল ৪০, ঢেঁড়স ৩৫, মিষ্টি কুমড়া ৫০, ঝিঙে ৪০, করলা ৫৫-৬০ এবং কাঁকরোল ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আটাশ চাল ৫৫ টাকা, লালসন্য চাল ৫০, আটা ৪৫, মসুরি ডাল ১১০, কলাই ডাল ১৮০, মটর ডাল ৬০, সুলা ডাল ১১০ এবং চিনি ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৫০ টাকা, সিলভার ২২০, তেলাপিয়া ২৪০, পাঙ্গাস ২০০, গ্লাসকাপ বড় ৪০০, মাঝারি ইলিশ ৭০০, বড় কাতলা ৪০০, চিংড়ি ৮০০, জিউল ৩৫০, কই ২২০ এবং বাটা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের পাইকারি দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি রুই ৩২০ টাকা, সিলভার ১৯০, তেলাপিয়া ২২০, পাঙ্গাস ১৮০, বড় গ্লাসকাপ ৩২০-৩৩০, ইলিশ ৬৮০, কাতলা ৩৭০, চিংড়ি ৭৫০, জিউল ৩০০, কই ২০০ এবং বাটা ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১১০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ এবং ছাগির মাংস ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে বয়লার ১৭০-১৮০, সোনালি ২৬০-২৮০, লেয়ার ৩৪০-৩৫০, দেশি মুরগি ৬৫০, চিনিহাঁস ৪৫০, পাতিহাঁস ৩৫০-৪০০ এবং রাজহাঁস ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা পলাশ মিয়া বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি। সপ্তাহে একদিন কাজ বন্ধ থাকে, তাই সেদিন বাজার করতে আসি। কিন্তু উপার্জনের টাকা দিয়ে বাজার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজি ও মাছ কিনতেই বেশি টাকা চলে যাচ্ছে।”
ক্রেতা মাসুম মিয়া বলেন, “আলু ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই বেশি। এক কেজি বেগুন কিনতেই ১২০ টাকার বেশি লাগছে। বয়লার মুরগির চেয়েও অনেক মাছের দাম বেশি।”
মাছ ক্রেতা হাবিব মিয়া বলেন, “এক কেজি তেলাপিয়া মাছ ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। প্রতি সপ্তাহেই মাছের দাম বাড়ছে। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বড় মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি হলেও ইচ্ছা থাকলেও সাধ্যের মধ্যে হচ্ছে না।”
করলা চাষি আনিসুর রহমান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে সবজির উৎপাদন কম হচ্ছিল। কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ দিয়ে আমাদের হাতে তেমন কিছু থাকত না। এখন একটু ভালো দাম পাচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে সংসার চালাতে পারব।”
কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, “বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ আছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি খুব কম। সারাদিনে দুই হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “টানা বৃষ্টির পর রোদের তাপে অনেক সবজির উৎপাদন কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।”
মাছ ব্যবসায়ী সুনিল কুমার হালদার বলেন, “চাহিদার তুলনায় বাজারে মাছ কম আসছে। অল্প আয়ের মানুষের মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।”
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, মাছ ও সবজির দাম কিছুটা কমলে তাদের জন্য বাজার করা সহজ হবে।