
‘মেহেরপুর ক্লিনিক’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে জরায়ু টিউমার অপারেশ করতে গিয়ে নাসিমা খাতুন (৬০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
গত রবিবার রাত ৯টার দিকে ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলেই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা খাতুন গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নাসিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে বেদম মারধর করে। এর মধ্যে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পরে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৫ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠণ করেছে।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য মেহেরপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমানের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার ছেলে নাজমুল হুদা। চুক্তি মোতাবেক তার মাকে বিকালে মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করে। ডাক্তারের কথা মত দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেয় এবং অগ্রিম ৬ হাজার টাকা প্রদান করে। রাত ৮টার দিকে নাসিমা খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয় ক্লিনিকের স্টাফরা। সেখানে ডা. মিজানুর রহমান অপারেশ করেন এবং তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি সহযোগী হিসেবে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর অপারেশ টেবিলেই রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় । এতে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি গুরতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন গ্রাম থেকে গিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে খবর মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, বিএনপি নেতা অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ঘটনাস্থলে পৌছে রোগীর লোকজনকে শান্ত করেন।
নাসিমা খাতুনের ছেলে নাজমুল হুদা জানান, তার মায়ের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য রাত ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের নেন ক্লিনিকের লোকজন। কিছুক্ষণ পর, আমার মা আমাকে ছেড়ে দেন ছেড়ে দেন বলে চিৎকার করতে থাকে। তাও তারা আমার মাকে ছাড়ে না। তার কিছুক্ষণ পরে জানায় রোগী মারা গেছে।
নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে ওই মিজান ডাক্তার মেরে ফেললো, আমি এখন কাকে নিয়ে থাকবো।’
মেহেরপুর ক্লিনিক এর মালিক ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক জীবনের শেষ বয়সে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। চিকিৎসার অবহেলা নয়, অপারেশনের পূর্ব মুহূর্তে রোগী কার্ডিয়াক এরেস্ট করায় তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে কিছু মেডিক্যাল চেকআপ করার পর স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাতেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেহেরপুরে সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে (আজ) সোমবার মেহেরপুর ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি এবং ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্তের জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, ময়না তদন্ত ছাড়াই সোমবার সকালে নিহতের জানাজা শেষে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে ।