
নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মেহেরপুরে নির্মিত হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। নির্মান শেষ হওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক কোড চালু না হওয়ায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও শিক্ষা কাযর্যক্রমও চালু করা যাচ্ছে না।
কলেজটি চালু হলে মেহেরপুরসহ সারাদেশ থেকে বিএসসি ইন নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা। ফলে স্থানীয়সহ দেশের স্বাস্থ্য সেবায় মেহেরপুর নার্সিং কলেজ অবদান রাখবে।
জানা গেছে, নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পাশে মেহেরপুর সরকারি কলেজ সড়কে ৩ একর ৬৩ শতক জমির নির্মাণ করা হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। কলেজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে চারতলা বিশিষ্ট হোস্টেল ভবন, চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, দুই তলা গ্যারেজ এবং একটি সাবস্টেশন। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্পর কাজ পায় সিরাজগঞ্জের ডিএমসিএল এন্ড পিসি-জেভি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ২৭ জুন কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। সিডিউল মোতাবেক কিছু ত্রুটি থাকায় সেগুলো পুন:মেরামত শেষে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও আহবায়ক কমিটির কাছে হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নার্সিং কলেজটি চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বাস্থ্য সেবার সাথে সংশ্লিষ্টরা। এটি দ্রুত চালু হলে নার্সিং সেবায় দক্ষ জনবল পাবে এলাকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ার সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।
কলেজ ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ৫ সদস্যর একটি আহবায়ক কমিটি গঠণ করে।
নার্সিং ও মিডউয়াফারি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) সাহানা ইসলাম আহবায়ক করা হয়েছে। মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসাকে সদস্য সচিব, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (শিক্ষা ) মুক্তার হোসেনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে। বাকি দুই জন সদস্য হলেন মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আসাদুল হক ও শারমিন নাহার।
মিরাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দর একটি নার্সিং কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজেটি দ্রুত চালু না হলে এ চত্বরে মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হবে। কলেজের মূল্যবান মালামাল চুরি ও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
রাফি হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, মেহেরপুরে বিএসসি নার্সিং পড়ার কোন প্রতিষ্ঠান নেই। বিএসসি লেভেলের নার্সিংয়ের জন্য মেহেরপুর নার্সিং কলেজ চালু হলে শিক্ষাথীরা এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এবং স্বাস্থ্য সেবা অবদান রাখতে পারবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, গত জানুয়ারি মাসে আমরা কলেজটি হস্তান্তর করেছি। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা কাযর্যক্রম চালু না হলে কলেজটি রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হবে। এছাড়া মাদকসেবীরা মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া আশংকা রয়েছে।
মেহেরপুর নার্সিং কলেজের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসা বলেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিপ্তর থেকে এ কলেজ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। আহবায়ক কমিটি হিসেবে আমরা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। দ্রুত তম সময়ের মধ্যে চালু করার জন্য অধিপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজের শিক্ষা কাযর্যক্রম চালু হবে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিপ্তদরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (শিক্ষা) মো: মুক্তার হোসেন বলেন, কলেজটির এখনো অর্থনৈতিক কোড তৈরি হয়নি, যার ফলে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। জনপ্রশাসন, অর্থ ও স্বাস্থ্য এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অর্থনৈতিক কোড তৈরি কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশ থাকলে অর্থনৈতিক কোড দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি আগামী ২০২৭ শিক্ষা বর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।