
মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন আলী আঙ্গুরকে তার পদ থেকে অপসারণ করে কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও কার্যকর করেছে।
ম্যানেজিং কমিটি সূত্রে জানা যায়, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ একরামুল আজিম অবসর গ্রহণের পর মহসিন আলী আঙ্গুরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নিজের স্বার্থ ও পদোন্নতির উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাবেক অধ্যক্ষ একরামুল আজিমকে প্রভাবিত করে কলেজের নাম পরিবর্তন করেন। এ সময় তাঁকে সাবেক মন্ত্রীর বিভিন্ন দলীয় ও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এমনকি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা ও মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়াও কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় মেহেরপুর ছহিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়মিত আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা, ক্রেস্ট প্রদান ও ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়, যা কলেজের তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের ম্যানেজিং কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে মহসিন আলী আঙ্গুরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণ করে এবং সহকারী অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহসিন আলী আঙ্গুরের অপসারণপত্র অনুমোদন ও কার্যকর করে মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মহসিন আলী আঙ্গুর বলেন, ক্ষমতার বলে এইসব অভিযোগ এনে আমাকে অপসারণ করানো হয়েছে।